চীন-মার্কিন চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে হংকংয়ের পণ্যবাহী জাহাজ বা ফ্রেইট শিপ খাত। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, ১২ মে শুরু হতে যাওয়া সপ্তাহে হংকং থেকে উত্তর আমেরিকার পশ্চিম উপকূলগামী প্রায় ৪১ শতাংশ পণ্যবাহী জাহাজ পরিবহন বাতিল করা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত শিপিং হাব হিসেবে পরিচিত হংকং। মূলত পণ্য পুনঃরফতানি কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এখানকার বন্দর। পণ্যবাহী জাহাজ বুকিং প্লাটফর্ম ফ্রেইটসের নির্বাহী সহসভাপতি জয়েস তাই বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে হংকংয়ের ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কা আসতে পারে, যা মূল ভূখণ্ড চীনের তুলনায় আরো বেশি হতে পারে।’
জানুয়ারি থেকে কয়েক দফা ঘোষণায় চীনা পণ্যের ওপর ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জবাবে চীনও মার্কিন পণ্যের ওপর ১২৫ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে। পাশাপাশি দেশটি ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে ‘তামাশা’ বলে মন্তব্য করেছে। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনার উদ্যোগ দেখা গেলেও এরই মধ্যে শুল্কের প্রভাব পড়া শুরু হয়েছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এভাবে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের ফলে দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্য কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩৫ শতাংশের বেশি শুল্ক আরোপ করা হলে চীনা রফতানিকারকদের মুনাফার আশা একেবারে ছেড়ে দিতে হবে। একইভাবে মার্কিন পণ্যও চীনে অত্যধিক ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে।
ফ্রেইটসের গবেষণা প্রধান জুদা লেভিন বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে চীন থেকে উত্তর আমেরিকাগামী নির্ধারিত নৌযাত্রার একটি বড় অংশ বাতিল করা হচ্ছে।
সরবরাহ চেইনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সি-ইন্টেলিজেন্স বলেছে, আগামী দুই সপ্তাহে প্রায় ৩২ শতাংশ শিপমেন্ট বাতিল হবে।
সামগ্রিকভাবে চলমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহন, আমদানি-রফতানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।